প্রথম পাতা
-
হাসি-তামাশা
-
ফটোগ্যালারী
বাংলা
কবিতা:
কাজী নজরুল ইসলাম,
সুকান্ত ভট্টাচার্য
পাতা - ১,
আবোল তাবোল
আয়রে ভোলা খেয়াল খোলা
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়,
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।
আয় যেখানে ক্ষ্যাপার গানে
নাইকো মানে নাইকো সুর।
আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায়
মন ভেসে যায় কোন সুদূর।
আয় ক্ষ্যাপা-মন ঘুচিয়ে বাঁধন
জাগিয়ে নাচন তাধিন ধিন,
আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া
নিয়মহারা হিসাবহীন।
আজগুবি চাল বেঠিক বেতাল
মাতবি মাতাল রঙ্গেতে -
আয়রে তবে ভুলের ভবে
অসম্ভবের ছন্দেতে
॥
খিচুড়ি
হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল 'হাঁসজারু' কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে - "বাহবা
কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।"
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা -
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে কাঁচা লঙ্কা?
ছাগলের পেটে ছিল না জানি কি ফন্দি,
চাপিল বিছার ঘাড়ে, ধড়ে মুড়ো সন্ধি!
জিরাফের সাধ নাই মাঠে - ঘাটে ঘুরিতে,
ফড়িঙের ঢঙ ধরি সেও চায় উড়িতে।
গরু বলে, "আমারেও ধরিল কি ও রোগে?
মোর পিছে লাগে কেন হতভাগা মোরগে?"
হাতিমির দশা দেখো - তিমি ভাবে জলে যাই
হাতি বলে, "এই বেলা জংগলে চল ভাই।"
সিংহের শিং নেই, এই তার কষ্ট -
হরিণের সাথে মিলে শিং হল
পষ্ট।
খুড়োর কল
কল করেছেন আজব রকম চন্ডীদাসের খুড়ো -
সবাই শুনে সাবাস বলে পাড়ার ছেলে বুড়ো।
খুড়োর যখন অল্প বয়স বছর খানেক হবে -
উঠল কেঁদে 'গুংগা' বলে ভীষণ অট্টরবে।
আর তো সবাই 'মামা' 'গাগা' আবোল তাবোল বকে,
খুড়োর মুখে 'গুংগা' শুনে চমকে গেল লোকে।
বললে সবাই, "এই ছেলেটা বাঁচলে পরে তবে,
বুদ্ধি জোরে এ সংসারে একটা কিছু হবে।"
সেই খুড়ো আজ কল করেছেন আপন বুদ্ধি বলে,
পাঁচ ঘন্টার রাস্তা যাবে দেড় ঘন্টায় চলে।
দেখে এলাম কলটি অতি সহজ এবং সোজা,
ঘন্টা পাঁচেক ঘাঁটলে পরে আপনি যাবে বোঝা।
বলব কি আর কলের ফিকির, বলতে না পাই ভাষা,
ঘাড়ের সংগে যন্ত্র জুড়ে এক্কেবারে খাসা।
সামনে তাহার খাদ্য ঝোলে যার যেরকম রুচি -
মন্ডা মিঠাই চপ কাটলেট খাজা কিংবা লুচি।
মন বলে তায় 'খাব খাব', মুখ চলে তায় খেতে,
মুখের সংগে খাবার ছোটে পাল্লা দিয়ে মেতে।
এমনি করে লোভের টানে খাবার পানে চেয়ে,
উ९সাহেতে
হুঁশ রবে না চলবে কেবল ধেয়ে।
হেসে খেলে দু -দশ যোজন চলবে বিনা ক্লেশে,
খাবার গন্ধে পাগল হয়ে জিভের জলে ভেসে।
সবাই বলে সমস্বরে ছেলে জোয়ান বুড়ো।
অতুল কীর্তি রাখল ভবে চন্ডী দাসের খুড়ো।
স९
পাত্র
শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে -
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে?
গংগারামকে পাত্র পেলে?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে?
মন্দ নয়, সে পাত্র ভালো -
রং যদিও বেজায় কালো;
তার উপরে মুখের গঠন
অনেকটা ঠিক প্যাঁচার মতন।
বিদ্যে বুদ্ধি?
বলছি মশাই -
ধন্যি ছেলের অধ্যবসায়!
উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে
ঘায়েল হয়ে থামল শেষে।
বিষয় আশয়?
গরীব বেজায় -
কষ্টে-সৃষ্টে দিন চলে যায়।
মানুষ তো নয় ভাইগুলো তার -
একটা পাগল একটা গোঁয়ার;
আরেকটি সে তৈরি ছেলে,
জাল করে নোট গেছেন জেলে।
কনিষ্ঠটি তবলা বাজায়
যাত্রাদলে পাঁচ টাকা পায়।
গংগারাম তো কেবল ভোগে
পিলের জ্বর আর পান্ডু রোগে।
কিন্তু তারা উচ্চ ঘর,
কংসরাজের বংশধর!
শ্যাম লাহিড়ী বনগ্রামের
কী যেন হয় গংগারামের।
যাহোক এবার পাত্র পেলে,
এমন কী আর মন্দ ছেলে।
কাঠ -
বুড়ো
হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে-যেন কে বৃদ্ধ,
রোদে বসে চেটে
খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ।
মাথা নেড়ে গান করে
গুন গুন সংগীত -
ভাব দেখে মনে
হয় না - জানি কি পন্ডিত!
বিড় বিড় কি যে বকে নাহি তার অর্থ -
"আকাশেতে ঝুল
ঝোলে কাঠে তাই গর্ত।"
টেকো মাথা তেতে ওঠে
গায়ে ছোটে ঘর্ম,
রেগে বলে, "কেবা বোঝে এ-সবের মর্ম?
আরে মোলো, গাধাগুলো
একেবারে অন্ধ,
বোঝে নাকো কোনো
কিছু খালি করে দন্দ্ব।
কোন কাঠে কত রস জানে নাকো তত্ত্ব -
একাদশী রাতে
কেন কাঠে হয় গর্ত?"
আশে পাশে হিজি বিজি
আঁকে কত অঙ্ক -
ফাটা কাঠ ফুটো কাঠ হিসাব অসংখ্য;
কোন ফুটো খেতে ভালো, কোনটা-বা মন্দ,
কোন কোন ফাটলের কিরকম গন্ধ।
কাঠে কাঠে ঠুকে করে ঠকাঠক শব্দ,
বলে, "জানি কোন কাঠ কিসে হয় জব্দ।
কাঠকুটো ঘেঁটেঘুঁটে
জানি আমি পষ্ট,
এ কাঠের বজ্জাতি কিসে হয় নষ্ট।
কোন কাঠ পোষ মানে,
কোন কাঠ শান্ত,
কোন কাঠ
টিমটিমে, কোনটা - বা জ্যান্ত।
কোন কাঠে
গ্গান নাই মিথ্যা কি সত্য,
আমি জানি
কোন কাঠে কেন থাকে গর্ত।
প্যাঁচা
আর প্যাঁচানী
প্যাঁচা কয় প্যাঁচানী
খাসা তোর চ্যাচানি!
শুনে শুনে আনমন
নাচে মোর প্রাণমন!
মাজা-গলা চাঁচা সুর
আহ্লাদে ভরপুর!
গলা - চেরা গমকে
গাছ পালা চমকে
সুরে সুরে কত প্যাঁচ
গিটকিরি ক্যাঁচ, ক্যাঁচ।
যত ভয় যত দুখ
দুরু দুরু ধুক, ধুক,
তোর গানে পেঁচি রে
সব ভুলে গেছি রে -
চাঁদামুখে মিঠে গান
শুনে ঝরে দু'নয়ান।
গোঁফ
চুরি
হেড অফিসের বড়বাবু লোকটি বড় শান্ত,
তার যে এমন মাথার
ব্যামো কেউ কখনো জানত?
দিব্যি ছিলেন
খোসমেজাজে চেয়ারখানি চেপে,
একলা বসে ঝিমঝিমিয়ে
হঠাত গেলেন ক্ষেপে!
আঁতকে উঠে হাত - পা
ছুঁড়ে চোখটি করে গোল!
হঠাত বলেন, "গেলুম
গেলুম, আমায় ধরে তোল!"
তাই শুনে কেউ বদ্যি
ডাকে, কেউ -বা হাঁকে
পুলিশ,
কেউ - বা বলে, "কামড়ে
দেবে সাবধানেতে তুলিস।"
ব্যস্ত সবাই এদিক
ওদিক করছে ঘোরাঘুরি -
বাবু হাঁকেন,
"ওরে আমার গোঁফ
গিয়েছে চুরি!"
গোঁফ হারানো!
আজব কথা!
তাও কি হয় সত্যি?
গোঁফ
জোড়া তো তেমনি আছে, কমেনি এক রত্তি।
সবাই তারে বুঝিয়ে বলে,
সামনে ধরে আয়না,
মোটেও গোঁফ
হয়নি চুরি, কক্ষনো তা হয় না!
রেগে আগুন তেলে
বেগুন, তেড়ে বলেন তিনি,
কারো কথার ধার ধারিনে,
সব ব্যাটাকেই চিনি।
নোংরা ছাঁটা
খ্যাংরা ঝাটা বিচ্ছিরি আর ময়লা,
"এমন গোঁফ
তো রাখত জানি শ্যামবাবুদের গয়লা।"
"এ গোঁফ
যদি আমার বলিস করব তোদের জবাই" -
এই না বলে জরিমানা
কল্লেন তিনি সবায়!
ভীষণ রেগে বিষম খেয়ে
দিলেন লিখে খাতায় -
কাউকে বেশি লাই দিতে
নেই, সবাই চড়ে মাথায়।
অফিসের এই বাঁদরগুলো,
মাথায় খালি গোবর
গোঁফ
জোড়া যে কোথায় গেল কেউ রাখে না খবর।"
ইচ্ছে করে এই
ব্যাটাদের গোঁফ ধরে
খুব নাচি,
মুখ্যগুলোর মুন্ডু
ধরে কোদাল দিয়ে চাঁচি।"
গোঁফকে
বলে তোমার আমার - গোঁফ
কি কারো কেনা
গোঁফের
আমি গোঁফের তুমি,
তাই দিয়ে যায় চেনা।
কাতুকুতু বুড়ো
আর যেখানে যাও না রে
ভাই সপ্তসাগর পার,
কাতুকুতু বুড়োর কাছে
যেও না খবরদার!
সর্বনেশে বৃদ্ধ সে
ভাই যেও না তার বাড়ি -
কাতুকুতুর কুলপি খেয়ে
ছিড়বে পেটের নাড়ি।
কোথায় বাড়ি কেউ জানে
না, কোন সড়কের মোড়ে,
একলা পেলে জোর করে
ভাই গল্প শোনায় পড়ে।
বিদঘুটে তার গল্পগুলো
না জানি কোন দেশী,
শুনলে পরে হাসির চেয়ে
কান্না আসে বেশি।
না আছে তার মুন্ডু
মাথা, না আছে তার মানে,
তবুও তোমায় হাসতে হবে
তাকিয়ে বুড়োর পানে।
কেবল যদি গল্প বলে
তাও থাকা যায় সয়ে,
গায়ের উপর সুড়সুড়ি
দেয় লম্বা পালক লয়ে।
কেবল বলে, "হোঃ হোঃ
হোঃ, কেষ্টদাসের পিসি -
বেচত খালি কুমড়ো কচু
হাঁসের ডিম আর তিসি।
ডিমগুলো সব লম্বা
মতন, কুমড়োগুলো বাঁকা,
কচুর গায়ে রঙ-বেরঙের
আলপনা সব আঁকা।
অষ্ট প্রহর গাইত পিসি
আওয়াজ করে মিহি,
ম্যাও ম্যাও ম্যাও
বাকুম বাকুম ভৌ ভৌ ভৌ চীহি।"
এই না বলে কুটুত করে
চিমটি কাটে ঘাড়ে,
খ্যাংরা মতন আঙুল
দিয়ে খোঁচায় পাঁজর
হাড়ে।
তোমায় দিয়ে
সুড়সুড়ি সে আপনি লুটোপুটি,
যতক্ষণ না
হাসবে তোমার কিচ্ছুতে নাই ছুটি।
ভালরে ভাল
দাদা গো দাদা!
দেখছি ভেবে অনেক দূর -
এই দুনিয়ার সকল ভালো,
আসল ভালো নকল ভালো,
শস্তা ভালো দামীও ভালো,
তুমিও ভালো আমিও ভালো,
হেথায় গানের ছন্দ ভালো,
হেথায় ফুলের গন্ধ ভালো,
মেঘ-মাখানো আকাশ ভালো,
ঢেউ-জাগানো বাতাস ভালো,
গ্রীষ্ম ভালো বর্ষা ভালো,
ময়লা ভালো ফরসা ভালো,
পোলাও ভালো কোর্মা ভালো,
মাছ-পটলের দোলমা ভালো,
কাঁচাও ভালো পাকাও ভালো,
সোজাও ভালো বাঁকাও ভালো,
কাসিও ভালো ঢাকও ভালো,
টিকিও ভালো টাকও ভালো,
ঠেলার গাড়ি ঠেলতে ভালো,
খাস্তা লুচি বেলতে ভালো,
গিটকিরি গান শুনতে ভালো,
শিমুল তুলো ধুনতে ভালো,
ঠান্ডা জলে নাইতে ভালো,
কিন্তু সবার চাইতে ভালো -
পাউরুটি আর ঝোলা গুড়॥
অবাক কান্ড
শুনছ দাদা!
এই যে হোথায় বদ্যি বুড়ো থাকে,
সে নাকি রোজ খাবার সময় হাত দিয়ে ভাত মাখে?
শুনছি নাকি খিদেও পায় সারাদিন না খেলে?
চক্ষু নাকি আপনি বোজে ঘুমটি তেমন পেলে?
চলতে গেলে ঠ্যাং নাকি তার ভুঁয়ের পরে ঠেকে?
কান দিয়ে সব শোনে নাকি?
চোখ দিয়ে সব দেখে?
শোয় নাকি সে মুন্ডুটাকে শিয়র পানে দিয়ে?
হয় কি না হয় সত্যি মিথ্যা চল না দেখি গিয়ে।
পাতা -
১,
বাংলা
কবিতা:
কাজী নজরুল ইসলাম,
সুকান্ত ভট্টাচার্য
প্রথম পাতা - হাসি-তামাশা - ফটোগ্যালারী